1
اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
সূত্র: Al-Hakim 1 / 562, Sahih at-Targhib wa at-Tarhib 1/273, at-Tabarani.
2
بسم الله الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴿قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ* اللَّهُ الصَّمَدُ* لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ* وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُواً أَحَدٌ﴾.
بسم الله الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴿قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ* مِن شَرِّ مَا خَلَقَ* وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ* وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ* وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ﴾.
بسم الله الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴿قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ* مَلِكِ النَّاسِ* إِلَهِ النَّاسِ* مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ* الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ* مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ﴾
(ثلاث مرات )
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে। বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির, মানুষের মা’বুদের তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
সূত্র: Al-Ikhlas:1-4. Al-Falaq:1-5. An-Nas:1-6, Abu Dawud 4/322, At-Tirmizi 5/567, Sahih At-Tirmizi 3/182.
3 AI
أَمسينَا وَأَمسى الْمُلْكُ لِلَّهِ, وَالْحَمْدُ لِلَّهِ, لاَ إِلَهَ إلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ, لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ, رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذَه الْليلة وَخَيرَ مَا بَعْدَها, وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هَذَه الْليلة وَشَرِّ مَا بَعْدَها, رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ, رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ
আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হলাম এবং সমস্ত রাজত্ব আল্লাহরই হয়ে সন্ধ্যা হলো; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। হে আমার রব! আমি আপনার কাছে এই রাতের কল্যাণ ও এর পরবর্তী কল্যাণ চাই, এবং এই রাতের অনিষ্ট ও এর পরবর্তী অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আমার রব! আমি আলস্য ও বার্ধক্যের মন্দ থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আমার রব! আমি জাহান্নামের আযাব ও কবরের আযাব থেকে আপনার আশ্রয় চাই।
সূত্র: Muslim 4/2088.
4
اللَّهُمَّ بِكَ أَمسينا, وَبِكَ أَصبحنا, وَبِكَ نَحْيَا, وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ المصيرُ
হে আল্লাহ! আমরা আপনার জন্য সকালে উপনীত হয়েছি এবং আপনারই জন্য আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি।(২) আর আপনার দ্বারা আমরা জীবিত থাকি, আপনার দ্বারাই আমরা মারা যাব; আর আপনার দিকেই উত্থিত হব।(৩) ............................ (২) আর বিকাল হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: হে আল্লাহ! আমরা আপনার জন্য বিকালে উপনীত হয়েছি এবং আপনারই জন্য আমরা সকালে উপনীত হয়েছি। আর আপনার দ্বারা আমরা জীবিত থাকি, আপনার দ্বারাই আমরা মারা যাব; আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তিত হব।’’ (৩) তিরমিযী, ৫/৪৬৬, হাদীস নং ৩৩৯১। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪২।
সূত্র: Sahih At-Tirmizi 3/142.
5
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ, خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ, وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ, أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ, أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ, وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنوبَ إِلاَّ أَنْتَ
[সায়্যিদুল ইসতিগফার:] হে আল্লাহ! আপনি আমার রব্ব, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আর আমি আমার সাধ্য মতো আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার ও (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির উপর রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই।(৪) আপনি আমাকে আপনার যে নিয়ামত দিয়েছেন তা আমি স্বীকার করছি, আর আমি স্বীকার করছি আমার অপরাধ। অতএব আপনি আমাকে মাফ করুন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ মাফ করে না।(১) ........................... (৪) আমি স্বীকার করছি ও মেনে নিচ্ছি। (১) যে ব্যক্তি সকাল বেলা অথবা সন্ধ্যা বেলা এটি (‘সায়্যিদুল ইসতিগফার’) অর্থ বুঝে দৃঢ় বিশ্বাসসহকারে পড়বে, সে ঐ দিন রাতে বা দিনে মারা গেলে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। বুখারী, ৭/১৫০, হাদীস নং ৬৩০৬।
সূত্র: Al-Bukhari 7/150, An-Nasa'i, At-Tirmizi.
6 AI
اللَّهُمَّ إِنِّي أَمسيتُ أُشْهِدُكَ, وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ, وَمَلاَئِكَتَكَ, وَجَمِيعَ خَلْقِكَ, أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ وَحْدَكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ, وَأَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ (أربع مرات)
হে আল্লাহ! আমি সন্ধ্যায় উপনীত হলাম এই সাক্ষ্য দিয়ে—আপনাকে, আপনার আরশ বহনকারীদের, আপনার ফেরেশতাদের ও আপনার সমস্ত সৃষ্টিকে সাক্ষী রেখে—যে আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই, আপনি এক, আপনার কোনো শরিক নেই, এবং মুহাম্মদ আপনার বান্দা ও রাসূল। (চার বার)
সূত্র: Abu Dawud 4/317, An-Nasa'i, Ibn As-Sunni.
7 AI
اللَّهُمَّ مَا أَمسى بِي مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ, فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ
হে আল্লাহ! এই সন্ধ্যায় আমি বা আপনার সৃষ্টির যে কেউ যে নিয়ামত লাভ করেছে, তা কেবল আপনার পক্ষ থেকেই, আপনার কোনো শরিক নেই; সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আপনারই এবং সমস্ত কৃতজ্ঞতা আপনারই।
সূত্র: Abu Dawud 4/318, Ibn As-Sunni (Hadith no. 41), Ibn Hibban (Hadith no. 2361).
8
اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي, اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي, اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي, لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ. اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ, وَالفَقْرِ, وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ, لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ (ثلاث مرات)
হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার শরীরে। হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার শ্রবণশক্তিতে। হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কুফুরী ও দারিদ্র্য থেকে। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে। আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। (৩ বার)(১) ........................... (১) আবূ দাউদ ৪/৩২৪, হাদীস নং ৫০৯২; আহমাদ ৫/৪২, হাদীস নং ২০৪৩০; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলাহ, হাদীস নং ২২; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং ৬৯; বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং ৭০১। আর শাইখ আল্লামা ইবন বায রহ. ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ গ্রন্থের পৃ. ২৬ এ এর সনদকে হাসান বলেছেন।
সূত্র: Abu Dawud 4/324, Ahmad 5/42, An-Nasa'i, Ibn As-Sunni (Hadith no. 69), Ibn Hibban (Hadith no. 2361).
9
حَسْبِيَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيهِ تَوَكَّلتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ (سبع مرات)
আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করি। আর তিনি মহান আরশের রব্ব। (৭ বার)(২) .............................. (২) যে ব্যক্তি দো‘আটি সকাল বেলা সাতবার এবং বিকালবেলা সাতবার বলবে তার দুনিয়া ও আখেরাতের সকল চিন্তাভাবনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হবেন। ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং ৭১, মারফূ‘ সনদে; আবূ দাউদ ৪/৩২১; মাওকূফ সনদে, হাদীস নং ৫০৮১। আর শাইখ শু‘আইব ও আব্দুল কাদের আরনাঊত এর সনদকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, যাদুল মা‘আদ ২/৩৭৬।
সূত্র: Ibn As-Sunni (no. 71), Abu Dawud 4/321, Ibn As-Sunni.
10
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ, اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ: فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي, وَمَالِي, اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي, وَآمِنْ رَوْعَاتِي, اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَينِ يَدَيَّ, وَمِنْ خَلْفِي, وَعَنْ يَمِينِي, وَعَنْ شِمَالِي, وَمِنْ فَوْقِي, وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা এবং নিরাপত্তা চাচ্ছি আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও অর্থ-সম্পদের। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন, আমার উদ্বিগ্নতাকে রূপান্তরিত করুন নিরাপত্তায়। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাযত করুন আমার সামনের দিক থেকে, আমার পিছনের দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপরের দিক থেকে। আর আপনার মহত্ত্বের অসিলায় আশ্রয় চাই আমার নীচ থেকে হঠাৎ আক্রান্ত হওয়া থেকে।(১) .............................. (১) আবূ দাউদ, হাদীস নং ৫০৭৪; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩৮৭১। আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ ২/৩৩২।
সূত্র: Sahih Ibn Majah 2/332, Abu Dawud.
11
اللَّهُمَّ عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ, رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ, أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ, أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي, وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطانِ وَشَرَكِهِ, وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوءاً, أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ
হে আল্লাহ! হে গায়েব ও উপস্থিতের জ্ঞানী, হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, হে সব কিছুর রব্ব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা থেকে ও তার শির্ক বা তার ফাঁদ থেকে, আমার নিজের উপর কোনো অনিষ্ট করা, অথবা কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে নেওয়া থেকে।(১) ......................... (১) তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩৯২; আবূ দাউদ, হাদীস নং ৫০৬৭। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী ৩/১৪২।
সূত্র: Sahih At-Tirmizi 3/142, Abu Dawud.
12
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلاَ فِي السّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (ثلاث مرات)
আল্লাহর নামে; যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী। (৩ বার)(২) ............................. (২) যে ব্যক্তি সকালে তিনবার এবং বিকালে তিনবার এটি বলবে, কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না। আবূ দাউদ, ৪/৩২৩, হাদীস নং ৫০৮৮; তিরমিযী, ৫/৪৬৫, হাদীস নং ৩৩৮৮; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩৮৬৯; আহমাদ, হাদীস নং ৪৪৬। আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ, ২/৩৩২। আর আল্লামা ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ তার ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ গ্রন্থের ৩৯ পৃষ্ঠায় এটার সনদকে হাসান বলেছেন।
সূত্র: Abu Dawud 4/323, At-Tirmizi 5/465, Ibn Majah 2/332, Ahmad.
13
رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبَّاً, وَبِالْإِسْلاَمِ دِيناً, وَبِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم نَبِيّاً (ثلاث مرات )
আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবীরূপে গ্রহণ করে আমি সন্তুষ্ট। (৩ বার)(৩) .............................. (৩) যে ব্যক্তি এ দো‘আ সকাল ও বিকাল তিনবার করে বলবে, আল্লাহর কাছে তার অধিকার হয়ে যায় তাকে কিয়ামাতের দিন সন্তুষ্ট করা। আহমাদ ৪/৩৩৭; নং ১৮৯৬৭; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ, হাদীস নং ৪; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং ৬৮; আবু দাউদ, ৪/৩১৮, হাদীস নং ১৫৩১; তিরমিযী ৫/৪৬৫, হাদীস নং ৩৩৮৯। আর ইবন বায রহ. ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ এর ৩৯ পৃষ্ঠায় একে হাসান বলেছেন।
সূত্র: Ahmad 4/ 337, An-Nasa'i, Ibn As-Sunni (no. 68), At-Tirmizi 5/465.
14
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغيثُ أَصْلِحْ لِي شَأْنِيَ كُلَّهُ وَلاَ تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ
হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! আমি আপনার রহমতের অসীলায় আপনার কাছে উদ্ধার কামনা করি, আপনি আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দিন, আর আমাকে আমার নিজের কাছে নিমেষের জন্যও সোপর্দ করবেন না।(১) .............................. (১) হাকেম ১/৫৪৫, তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, আর যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। আরও দেখুন, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব ১/২৭৩।
সূত্র: Al-Hakim 1/545.
15
أَمسينَا وَأَمسى الْمُلْكُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ, اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذَه الْليلة:فَتْحَها, وَنَصْرَها, وَنورَها, وَبَرَكَتَها, وَهُدَاها, وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيها وَشَرِّ مَا بَعْدَها
আমরা সকালে উপনীত হয়েছি, অনুরূপ যাবতীয় রাজত্বও সকালে উপনীত হয়েছে সৃষ্টিকুলের রব্ব আল্লাহর জন্য।(২) হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কামনা করি এই দিনের কল্যাণ(৩): বিজয়, সাহায্য, নূর, রবকত ও হেদায়াত। আর আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই এ দিনের এবং এ দিনের পরের অকল্যাণ থেকে।(১) ............................... (২) আর যখন বিকাল হবে, তখন বলবে, আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি, অনুরূপ যাবতীয় রাজত্বও বিকালে উপনীত হয়েছে সৃষ্টিকুলের রব্ব আল্লাহ্র জন্য। (৩) আর যখন বিকাল হবে, তখন বলবে, হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কামনা করি এই রাতের কল্যাণ: বিজয়, সাহায্য, নূর, রবকত ও হেদায়াত। আর আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই এ রাতের এবং এ রাতের পরের অকল্যাণ থেকে। (১) আবূ দাউদ ৪/৩২২, হাদীস নং ৫০৮৪; আর শু‘আইব ও আবদুল কাদের আরনাঊত যাদুল মা‘আদের সম্পাদনায় ২/৩৭৩ এর সনদকে হাসান বলেছেন।
সূত্র: Abu Dawud 4/322.
16 AI
أَمسينا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلاَمِ, وَعَلَى كَلِمَةِ الْإِخْلاَصِ, وَعَلَى دِينِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم, وَعَلَى مِلَّةِ أَبِينَا إِبْرَاهِيمَ, حَنِيفاً مُسْلِماً وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشرِكِينَ
আমরা ইসলামের ফিতরাতের উপর, ইখলাসের কালিমার উপর, আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বীনের উপর এবং আমাদের পিতা ইবরাহীমের মিল্লাতের উপর সন্ধ্যায় উপনীত হলাম; তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণকারী, আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
সূত্র: Ahmad 3/406-7, 5/123, An-Nasa'i, At-Tirmizi 4/209.
17
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ (مائة مرة)
আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি। (১০০ বার)(৪) ......................... (৪) যে ব্যক্তি তা সকালে একশত বার ও বিকালে একশত বার বলবে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে বেশি উৎকৃষ্ট কিছু কেউ নিয়ে আসতে পারবে না, তবে সে ব্যক্তি যে তার মত বলবে, বা তার চেয়ে বেশি আমল করবে। সহীহ মুসলিম ৪/২০৭১, হাদীস নং ২৬৯২।
সূত্র: Muslim 4/2071.
18
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ, لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ, وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (عشر مرات أو مرة واحدة عند الكسل)
একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। (১০ বার)(১) অথবা (অলসতা লাগলে ১ বার)(২) .............................. (১) নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ, হাদীস নং ২৪। আরও দেখুন, সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৭২; ইবন বায, তুহফাতুল আখইয়ার পৃ. ৪৪। এর ফযীলতের ব্যাপারে আরও দেখন, পৃ. হাদীস নং ২৫৫। (২) আবূ দাউদ, হাদীস নং ৫০৭৭; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩৭৯৮; আহমাদ নং ৮৭১৯। আরও দেখুন, সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৭০; সহীহ আবি দাউদ ৩/৯৫৭; সহীহ ইবন মাজাহ ২/৩৩১ ও যাদুল মা‘আদ ২/৩৭৭।
সূত্র: An-Nasa'i, Abu Dawud 4/319, Ibn Majah, Ahmad 4/60.
19
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ (مائة مرة في اليوم)
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকটই তাওবা করছি। (প্রতি দিন ১০০ বার)(৩) ............................ (৩) সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১০১, হাদীস নং ৬৩০৭; সহীহ মুসলিম ৪/২০৭৫, হাদীস নং ২৭০২।
সূত্র: Al-Bukhari, Muslim 4/2075.
20
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ (ثلاث مرات)
আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় আমি তাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই। (বিকালে ৩ বার)(১) ........................... (১) যে কেউ বিকাল বেলা এ দো‘আটি তিনবার বলবে, সে রাতে কোনো বিষধর প্রাণী তার ক্ষতি করতে পারবে না। আহমাদ ২/২৯০, হাদীস নং ৭৮৯৮; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং ৫৯০; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং ৬৮; আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী ৩/১৮৭; সহীহ ইবন মাজাহ ২/২৬৬; তুহফাতুল আখইয়ার লি ইবন বায, পৃ. ৪৫।
সূত্র: Ahmad 2/ 290, An-Nasa'i, At-Tirmizi 3/187, Ibn As-Sunni (Hadith no. 68), Ibn Majah 2/266.
21
اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبَيِّنَا مُحَمَّدٍ (عشر مرات)
হে আল্লাহ! আপনি সালাত ও সালাম পেশ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর। [সকাল-বিকাল ১০ বার করে](২) ........................ (২) ‘যে কেউ সকাল বেলা আমার উপর দশবার দরুদ পাঠ করবে এবং বিকাল বেলা দশবার দরুদ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ দ্বারা সৌভাগ্যবান হবে।’ তাবরানী হাদীসটি দু’ সনদে সংকলন করেন, যার একটি উত্তম। দেখুন, মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ ১০/১২০; সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব ১/২৭৩।
সূত্র: At-Tabrani, Sahih at-Targhib wa at-Tarhib 1/273.